রাজারবাগ শরীফ ইসুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ওলামা লীগ সেক্রেটারীর

জাতীয় দেশজুড়ে রাজনীতি

এসএম রাজীবঃ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও জঙ্গীবাদ-মৌলবাদ বিরোধী রাজারবাগ দরবার শরীফকে নিয়ে অব্যাহত মিডিয়া ক্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট এবং সিআইডির তদন্ত প্রত্যাখান করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সেক্রেটারী মাওলানা আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।

শনিবার (২০ নভেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ উলামা পীর মাশায়েখ ঐক্য পরিষদ কতৃক আয়োজিত এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত বক্তব্যে এ দাবি জানান তিনি।

বক্তব্যে মাওঃ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বলেন, রাজারবাগ দরবার শরীফ থেকে ১৯৯০ সালে জামাতকে চ্যালেঞ্জ করে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে বই লেখা হয়েছে। দরবার শরীফ থেকে প্রকাশিত মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসানে জঙ্গীবাদ-মৌলবাদ, জামাত হেফাজত সম্পর্কে ১৯৯১ সাল থেকে ক্ষুরধার লেখনী চালানো হচ্ছে। আজকে সে রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে জঙ্গীবাদের মিথ্যা তোহমত দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি।

মানববন্ধনে মিরপুরের মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা বাতাকান্দি দরবার শরিফের পীর আল্লামা শায়খ খন্দকার গোলাম মওলা নকশেবন্দী, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোটের সভাপতি মুফতি মাওঃ আব্দুল হালিম সিরাজী, ওলামা লীগের সহ দপ্তর সম্পাদক মাওঃ আব্দুস সবুর মিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুস সাত্তার, গাজীপুর কাদেরিয়া দরবার শরিফের পীর হাবিবুর রহমান, হাক্কানী তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ড. মুশফিকুর রহমান প্রমুখ।

সূচনা বক্তব্যে জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের প্রধান মুয়াজ্জিন আলহাজ্জ্ব মাওলানা ক্বারী কাজী মাসউদুর রহমান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পীর আউলিয়ার বংশধর। পীর সাহেবদের কারণেই বাংলাদেশে ইসলাম এসেছে এবং এদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমান। কাজেই যারা পীর সাহেবদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়, পীরের কারামতি দেখেন বলে বিষেদগার করে এবং পীর সিন্ডিকেট বলে নিউজ করে তারা এদেশের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়।

বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোটের সভাপতি মুফতি মাওঃ আব্দুল হালিম সিরাজী বলেন, মিডিয়ায় অনুপ্রবেশ করা এসব জামাতী রিপোর্টাররাই রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে অব্যাহত মিডিয়া ক্যু চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকী তারা হাইকোর্ট এবং আইনমন্ত্রীর নামেও রাজারবাগ শরীফকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করে মিডিয়া ক্যু করে যাচ্ছে। এনটিভি, সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় গত ৫ অক্টোবর নিউজ হেডিং করা হয়েছে, ‘রাজারবাগ পীরের সব আস্তানা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের’। অথচ বাস্তবিকপক্ষে এরকম কোনো নির্দেশই দেয়নি হাইকোর্ট। একইভাবে তারা গত ১০ অক্টোবর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে আইনমন্ত্রীর এক অনুষ্ঠানের বরাত দিয়ে রাজারবাগ শরীফের বিরুদ্ধে নিউজ করেছে যে, ‘রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারী আইনমন্ত্রীর’। অথচ এই নিউজের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে আইনমন্ত্রী নিজেই বলেছেন তিনি রাজারবাগ শরীফ নিয়ে এরকম কোনো বক্তব্য দেননি। মুফতি সিরাজী বলেন, কোথাও নিউজ হচ্ছে ৪৯ মামলা, কোথাও ৮০০ মামলা। কোথাও ৭ হাজার একর, কোথাও নিউজ হচ্ছে ৬ হাজার একর, কোথাও ৩ হাজার একর, আবার কোথাওবা ১ হাজার একর জমি দখল। মূলত এসব তথ্য বৈপরীত্যই প্রমান করে যে, এসবই জঙ্গী জামাতবিরোধী শতভাগ সুন্নতী আমলের হক্ব দরবার শরীফ রাজারবাগ শরীফের বিরুদ্ধে অব্যাহত মিডিয়া ক্যু।

এসময়ে মুফতি সিরাজী বলেন, ৭ হাজার একর জমি দখল, জমি দখলের জন্য মিথ্যা মামলা, মামলাবাজ সিন্ডিকেট এগুলো সবই জামাতী মদদপুষ্ট হলুদ সাংবাদিকতা। জামাত জঙ্গীবাদবিরোধী এবং একশত ভাগ সুন্নতী আমলের দরবার শরীফ, রাজারবাগ দরবার শরীফ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ালেই এর পেছনে কুট-উদ্দেশ্য রয়েছে।

কাঞ্চনপুর দরবারের হাফেজ আব্দুল জলীল বলেন, আমি গত ১০ বছর যাবত প্রখ্যাত জঙ্গীবাদ জামাতবিরোধী নূরানী দরবার শরীফ- রাজারবাগ দরবার শরীফ যাতায়াত করছি। এমন হক দরবার শরীফ সম্পর্কে সি.আই.ডির মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কিভাবে মিথ্যা রিপোর্ট দিতে পারলো তা ভাবতেও অবাক লাগে। সি.আই.ডি রিপোর্ট দিয়েছে, রাজারবাগ দরবার শরীফের পেছনে ৩ শতাংশ জমির উপর তিনতলা বাড়ি দখলের জন্য কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। অথচ প্রকৃত সত্য হলো, রাজারবাগ দরবার শরীফের পেছনে ৩ শতক জায়গায় কোনো বাড়িও নেই এবং কোনো ৩ তলা বিল্ডিংও নেই। এরূপ মিথ্যা তথ্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা সি.আই.ডি কি করে হাইকোর্টে প্রেরণ করতে পারলো এটা তদন্তের জন্য আমরা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।

টাঙ্গাইলে পীর আখতার হোসাইন বুখারী বলেন, রাজারবাগ শরীফের পীর সাহেব ক্বিবলা জামাত জঙ্গীবাদবিরোধী অনন্য পীর সাহেব। উনার কাছে আমি যত যাই ততই মুগ্ধ হই। উনি কারো দ্বারা মামলা করিয়েছেন- এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা। আর ৪৯ বা ৮০০ মিথ্যা মামলা যদি হয়ে থাকে সেটা খোদ প্রশাসনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, থানা পুলিশই মামলা নেয়। তারা যাতে মিথ্যা মামলা না নেয় সেজন্য প্রশাসনকেই ঢেলে সাজাতে হবে। কাজেই রাজারবাগের পীর সাহেবের মিথ্যা সমালোচনা না করে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা জামাতীদের চিহিৃত করে প্রত্যাহার করতে হবে।

সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, আমার বাড়ি বৃহত্তর নোয়াখালী জেলায়। আমি কুখ্যাত কাঞ্চনের আদ্যোপান্ত সবই জানি। সে এমন কুলাঙ্গার সন্তান যে, সে তার মাকে হত্যা করতে গিয়েছিলো। সে তার মায়ের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দিয়েছে। তার মাও তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা দিয়েছে। তাদের পারিবারিক মামলার সংখ্যাই ১৫টির মত। এছাড়া কাঞ্চন ১৯৮৮ সালে স্থানীয় কমিশনার সেকেন্দারের ভাইকেও হত্যা মামলার আসামী। সে বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক মামলাকে কুটকৌশলে রাজারবাগ শরীফের উপর চাপিয়ে দিয়ে জামাতী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।

হাক্কানী তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান কাজী আহমদুর রহমান বলেন, রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে সেটাই বর্তমান পৃথিবীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কারণ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্পূর্ণ রিপোর্টে কোথাও রাজারবাগ শরীফের কোনো বক্তব্য নেই, রাজারবাগ শরীফের সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং কোনো জিজ্ঞাসাও করা হয়নি, আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি।

সভাপতির বক্তব্যে মিরপুরস্থ মুহাম্মাদীয়া দরবারের পীর আল্লামা মুজিবুর রহমান খান আল মাদানী বলেন, বর্তমান যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ ও সুমহান ইমাম ঢাকা রাজারবাগ শরীফের বিরুদ্ধে জামাতী এজেন্টরা কি পরিমাণ মিডিয়া ক্যু করে যাচ্ছে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো, শতভাগ শরীয়তের আমলকারী রাজারবাগের পীর সাহেব ক্বিবলা তিনি ছবি তুলেন না। আজ পর্যন্ত উনার একটি ছবিও নেই। অথচ এখানে কুতুববাগী অথবা অন্য কারো ছবি দেখিয়ে তাকে রাজারবাগের পীর সাহেব হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

 

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, চরনপুর দরবারের পীর ছাহেব মাও: আ: সালাম, কাঠালিয়া সুন্নিয়া দরবারের পীর ছাহেব আল্লামা মুফতি আলতাফ হোসাইন জামী, গোপালগঞ্জ দরবারের পীর ছাহেব আল্লামা শোয়াইব আহমদ, নীলফামারী দরবারের পীর ছাহেব আল্লামা নূর মোহাম্মদ আহাদ আলী সরকার, কাঞ্চনপুর দরবারের হাফেজ মাও: আ: জলীল, ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট সা: সম্পাদক অধ্যাপক মাও: আখতারুজ্জামান, রানীপুরা দরবারের আ: সবুর, করটিয়া দরবারের আলহাজ্ব মাও: মুহাম্মদ শওকত আলী শেখ সিলিমপুরী, আল্লামা ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান, ওলামা মাশায়েখ যুগ্ম সম্পাদক মুফতি আল আমীন সহ দরবারের ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

 

কালের ছবি/ রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *