বাঘায় দ্বন্দের অবসান হলেও পাওনা টাকা ফেরত পাইনি ব‍্যবসায়ী

আইন আদালত জাতীয় দেশজুড়ে
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘায় আম ব্যবসা কেন্দ্রিক টাকা লেনদেনের সুত্র ধরে শালিসী বৈঠকে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। প্রথম দফায় নিষ্পত্তি না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় শালিস বসানো হয় উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন পরিষদে। রেজাউল করিম (৪৮) নামের এক আম ব্যাবসায়ী উপজেলার বাউসা ভাড়ালিপাড়া এলাকার আবু তাহের উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩২) এর কাছে টাকা পাবে মর্মে বাউসা ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আম ব্যাবসায়ী রেজাউল করিম পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার ধরবিলা এলাকার আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে। তিনি ২০০৬ সাল থেকে বাউসা ইউনিয়নের দিঘা বাজারে ব্যাবসা করে আসছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান (শফিক),প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সাইদুর রহমান ভুট্টু, অধ্যক্ষ রেজাউল করিম,আড়ৎদার গোপাল ঘোষ,শাজাহান মোল্লা, রাজা মোল্লা, আলাল মোল্লা, নাসির উদ্দিন (শিক্ষক),আতাব উদ্দিন, নঈম উদ্দিন, নান্টু,সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ, ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ সহ অন্যান্য ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে বাদী রেজাউল ও বিবাদী রবিউলের কথা শেষে আড়ৎদার গোপাল ঘোষ কথা বলতে শুরু করলে, নঈম উদ্দীন ও নান্টু উত্তেজিত হয়ে মজিবুর রহমানের উপর অতর্কিত হামলা করে। পরে পাশে থাকা নাসির উদ্দিন কে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে। বিবাদী রবিউলের পক্ষের লোকজন একযোগে এগিয়ে এলে পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে রেজাউলের পক্ষের লোকজন দিঘায় চলে আসে। এ ব্যাপারে গত (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪ টার সময় উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে দিঘা বাজারের দোকানপাট বন্ধ রেখে।
এলাকার সকল ব্যাক্তি একসাথে অবস্থান করে দিঘা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। এ ঘটনায় দিঘাবাসী ফুঁসে ওঠে নীরব প্রতিবাদে অংশ নেয় তারা। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলের উদ্যোগে সমঝোতা হলেও পাওনা টাকা ফেরত পায়নি আম ব্যাবসায়ী রেজাউল। ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, আমি ২০১৭-১৮ সালে ব্যাবসা করেছি সাদি এন্টারপ্রাইজ এর সত্তাধিকারী সানা ও দুলালের সাথে। পরে ২০১৯-২০ সালে ব্যাবসা করি গোচ্ছিদার রবিউল ইসলামের সাথে। ২০২১ সালে সরাসরি ব্যাবসা করি খুলনার মেসার্স লোকনাথ ভান্ডার এর সত্তাধিকারী গোপাল ঘোষের সাথে। রেজাউল করিমের দাবি তিনি ২০২০ এ-র হিসাব শেষে ৬ লক্ষ ৭৪ হাজার ২শ’৮২ টাকা পাওনা রবিউলের কাছে। এ পাওনা টাকা ফেরত পেতে বারংবার বাউসা আম সমিতীর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য সদস্যদের বলেও কোন লাভ হয়নি। কোন উপায় না পেয়ে রেজাউল বাউসা ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রেজাউল আরও বলেন, আমার কাছে পাওনা টাকার সঠিক প্রমান থাকা সত্ত্বেও কেন আমি বিচার পাবো না।
গোচ্ছিদার রবিউল ইসলাম জানান, আমার সাথে রেজাউলের সকল লেনদেন মিটিয়ে দিয়েছি। সে আমার কাছে আর কোন টাকা পাবে না। মুঠোফোনে আড়ৎদার গোপাল ঘোষ জানান, বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের শালিসে আমি উপস্থিত ছিলাম। রেজাউল ২০১৯-২০ সালে ব্যাবসা করেছে বাউসার ব্যাবসায়ী রবিউলের সাথে। পরে সরাসরি আমার সাথে ব্যবসা করবে মর্মে ২০২১ সালে ও ২০২২ সালের জন্য দাদন  গ্রহন করেছে। কিন্তুু দাদনের পরিমান জানতে চাইলে তিনি তা বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে বাউসা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ মুঠোফোনে জানান, আম ব্যাবসায়ীর পাওনা টাকার শালিসের সকল দায়-দায়িত্ব চেয়ারম্যানের, তিনি আহ্বায়ক, আমি কিছুই জানিনা। বাউসা আম ব্যাবসায়ী সমিতির সদস্য অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, আমার উপস্থিতিতে এ ঘটনায় দুইবার শালিস হয়েছে। আমি সহ সমিতির অনেকের কাছে মৌখিক ভাবে বলেছে রেজাউল। সমিতি কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় আমার পরামর্শে ইউনিয়ন পরিষদের সরনাপন্ন হয় রেজাউল। আম ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি মঞ্জুর সরকার বলেন, সমিতির কোন সদস্য লেনদেনের সমস্যায় পড়ে যদি জানায়, তবে সমিতি দেখবে। রেজাউল পরিষদে শালিসের কথা জানিয়েছিল আমি যেতে পারিনি।
বাউসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, ৭৫ হাজার টাকার উর্ধে ইউনিয়ন পরিষদে শালিস করা যায় না। তবুও বিষয়টি নিস্পত্তির উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষের সম্মতিতে  শালিসি বৈঠক বসানো হয়। কিন্তুু অপ্রিতিকর ঘটনায় শালিস বানচাল হয়ে যায়। আমি উভয় পক্ষ কে বলেছি আম ব্যাবসায়ীর টাকা দেনা পাওনার সমাধান আম সমিতি করে থাকে। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বসে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা করেছি। আমি পুনরায় দায়িত্ব নিয়ে আম ব্যাবসায়ীর শালিস করতে চেয়েছিলাম কিন্তুু বাউসার নেত্রীবৃন্দের পরামর্শে তা আর করা হয়নি।
এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল আম। অজানা কারণে এ-ই আম ব্যাবসা কেন্দ্রিক টাকা লেনদেনের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেনি আম ব্যাবসায়ী সমিতি,এগিয়ে আসেনি স্থানীয় নেতারা। যে ঘটনা কে কেন্দ্র করে দন্দের সৃষ্টি হয়েছে  অজানা কারনে সে ঘটনা পড়ছে চাপা, উদ্ধার হয়নি আম ব্যাবসায়ী রেজাউলের পাওনা টাকা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল এ-র উদ্যোগে কেবল দিঘা ও বাউসার দন্দের অবসান হয়েছে। এ ঘটনায় দিঘাবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন দায়িত্বপূর্ণ জায়গা থেকে সকলেই এড়িয়ে গেলে কোথায় গিয়ে বিচার পাবে রেজাউল।
কালের ছবি/ রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *