সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক তলবে সংগঠনগুলোর নিন্দা-প্রতিবাদ

আইন আদালত জাতীয় দেশজুড়ে

 

এসএম রাজীব: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতৃক সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেত্রীবৃন্দের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাংবাদিক নেতারা।এসময় তারা সরকারের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ৫ টি সাংবাদিক সংগঠনের ১১ জন শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে চিঠি দেয়। এ ঘটনায় আজ শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে এবং ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডিআরইউ’র সাধারন সম্পাদক মশিউর রহমান খান বলেন, দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এ ভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। কেননা এর আগে কোন সময়ে এরকম ঘটনা ঘটেনি। কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতার পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসমূহের নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি। নির্বাচিত নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

এসময়ে তিনি প্রশ্ন রেখে আরো বলেন, বিএফআইইউ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে যে চিঠি দিয়েছে তাতে তথ্য পাওয়ার আগেই তথ্য চাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার উদ্দেশ্য কি? সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককের বিএফআইইউ’র দেওয়া চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় সমাজের মানুষের কাছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের তথা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্ত ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সাথে সরকারের দায়িত্বশীল কতৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করছি।

এ সময়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমরা সংবাদ সম্মেলন করছি কারণ আমাদের ভোটাররা এ ঘটনায় মর্মাহত হয়েছে, কষ্ট পেয়েছে এই ভেবে যে আমাদের নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। আমি মনে করি নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানে সাংবাদিককে প্রশ্নবিদ্ধ করা। এসময়ে তিনি আরো বলেন, আমরা জানি যে যারা সংগঠন চালায় তাদের কি পরিমান কষ্ট করে সংগঠন চালাতে হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কোন সুযোগ নাই যে তারা অর্থ কোন নয়ছয় করবে। এসময়ে আগামী কাল প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল ৫ টি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের ১১ জন সাংবাদিক নেতাকে চিঠি দিয়েছে। এ ১১ জন হলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ( বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইজে) এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিআরইউ) সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদ আলম তপু, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সভিাপতি মোরসালিন নোমানী, সাধারন সম্পাদক মশিউর রহমান খান।

কালের ছবি/ রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *