বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আমড়ার চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে 

অর্থনীতি জাতীয় দেশজুড়ে
এস.এম.  সাইফুল ইসলাম কবির :বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে  শত শত কৃষি খামারের পতিত জমিতে ও বাড়ির আঙ্গিনায় বাণিজ্যিকভাবে আমড়ার চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই।আমড়া এদেশের একটি মৌসুমি ফল। সবজি হিসেবেও এটি সমান জনপ্রিয় দেশে। বাগেরহাট জেলার মাটি ও আবহাওয়া আমড়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এঅঞ্চলের আমড়ার খ্যাতিও দেশজুড়ে। দেশের আমড়ার চাহিদার ৬০-৭০ ভাগ মেটায় এ অঞ্চলের চাষিরা।
বাণিজ্যিক ভাবে ২০০৫ সালে মূলতঃ এ জেলায় আমড়ার চাষ শুরু হলেও গত কয়েক বছরে বা¤পার ফলনও হয়েছে। সুস্বাদু আর সুখ্যাতির কারণে কৃষকরা ভালো দামও পেয়েছেন। ভালো টাকা আয়ের সুযোগ থাকায় এঅঞ্চলে আমড়া চাষির সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।
স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, সাধারণত বাড়ির আঙ্গিনায়, সড়কের পাশে আমড়ার চারা রোপণ করেন তারা। ইদানিং শহরাঞ্চলের দালানের ছাদেও অনেকে আমড়া গাছ লাগাচ্ছেন। খুব একটা যতœ করতে হয়না আমড়া গাছের। পরিপক্ক আমড়া গাছ থেকে পেরে ফেলার পর ১০/১২ দিন কোন প্রকার প্রিজারভেটিভ ছাড়াই ভালো থাকে। তাই রপ্তানিতেও আমড়া সুবিধার ফল।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সিফাত-আল-মারুফ বলেন, আমড়া একটি সুস্বাদু ফল। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আমড়ার জন্য বিখ্যাত। গাছ বাঁচে ২০ বছর। আমড়া গাছের বয়স একটু বেশি হলে তাতে পোকায় ধরলে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রতিকার করা সম্ভব। তাছাড়া কিছু কিছু গাছে বৈশাখের শুরুতে নতুন গজানো পাতায় লেদাপোকা আক্রমণ করে। এসময় বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটালে তা দূর হয়।তবে সব অঞ্চলেই আমড়া চাষ করা যায়। আমড়ায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, আয়রণ, ক্যালসিয়াম আর আঁঁশ আছে, যেগুলো শরীরের জন্য খুব দরকারি। হজমেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তেল ও চর্বিযুক্ত খাদ্য খাওয়ার পর আমড়া খেলে হজমে সহায়ক হয়। আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন-সি থাকায় এটি খেলে স্কার্ভি রোগ এড়ানো যায়।
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধেও লড়তে পারে আমড়া। অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে দেয়। সর্দি-কাশি-জ্বরের উপশমেও আমড়া অত্যন্ত উপকারী। শিশুর দৈহিক গঠনে ক্যালসিয়াম খুব দরকারি। ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস এই আমড়া। শিশুদের এই ফল খেতে উৎসাহিত করতে পারেন। এছাড়া এটি রক্তস্বল্পতাও দূর করে। কিছু ভেষজ গুণ আছে আমড়ায়। এটি পিত্তনাশক ও কফনাশক। আমড়া খেলে মুখে রুচি ফেরে, ক্ষুধা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
আমড়ায় থাকা ভিটামিন-সি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। খাদ্যে থাকা ভিটামিন এ এবং ই এটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে। দাঁতের মাড়ি শক্ত করে, দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত, পুঁজ, রক্তরস বের হওয়া প্রতিরোধ করে আমড়া।
এর ভেতরের অংশের চেয়ে বাইরের খোসাতে রয়েছে বেশি ভিটামিন সি আর ফাইবার বা আঁশ, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। আর আঁশজাতীয় খাবার পাকস্থলী (স্টমাক), ক্ষুদ্রান্ত, গাছহদন্ত্রের (পেটের ভেতরের অংশবিশেষ) জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।                                                   বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, বাগেরহাটে প্রায় ৫ হাজার আমড়া চাষি রয়েছেন। প্রায় ২ হাজার ক্টের জমিতে আমড়ার চাষ হচ্ছে। খরচ খুব কম হওয়াতে এ জেলায় আমড়ার চাষ বাড়ছে। ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রংপুর, সিলেট, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখানকার আমড়া পাঠানো হয়। বাগেরহাটের দক্ষিণাঞ্চলের আমড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, মালয়েশিয়া, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
কালের ছবি/ রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *