প্রায় ৩ কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স দেড় বছরেও চালু হয়নি

আইন আদালত জাতীয় দেশজুড়ে

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট : ২ কোটি ৬৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো হস্তান্তর হয়নি। আর এতে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্নের দাবী করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ কোটি ৬৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর। সর্বশেষ গেল বছরের জুন মাসে এটি হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু সে-ই সময়ের প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো হস্তান্তর হয়নি ভবনটি। ফলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বহুল প্রত্যাশিত নির্মিত এ ভবন ব্যবহার করতে পারছে না জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা। ইতোমধ্যে নির্মাণাধীন ভবন দেখতে দেখতে মারা গেছেন অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ পরিস্থিতির জন্য ভবন নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পরস্পরকে দুষছেন। বাস্তবায়ন কমিটির দাবি কাজের মাঝে কিছু কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল। পক্ষান্তরে ঠিকাদারের দাবি কাজ শেষ হবার দেড় বছর হলেও ভবনটি এখনো হস্তান্তর নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্ভোগ লাঘবে ‘জায়গা প্রাপ্তি সাপেক্ষে’ প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় মোরেলগঞ্জ উপজেলায় আধুনিক মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দৃশ্যমান এই ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। সরকারের দেয়া কাজের অনুমতি পত্রে ভবনটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ ছিল ১ বছর। সে হিসেবে ভবনটির কাজ ২০১৮ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়ার কথা ।

জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভবন নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নিয়ে কিছু জটিলতার কারণে ভবনের নির্মাণ কাজ বিলম্বে শুরু করা হয়। তাই ভবন হস্তান্তরের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হবার পরে দুই ধাপে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উপজেলা প্রকৌশল শাখা বলছেন সরকারের দেয়া দ্বিতীয় ধাপে বাড়ানো মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের জুন মাসে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। ভবনের খুঁটি-নাটি কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে-সেগুলো ঠিক করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। উদ্বোধন না হওয়ায় দৃশ্যমান এ ভবনটি এখন বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার লিয়াকত আলী খান বলেন, এটি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্মাণ কাজ শেষ হবার এতদিন পরেও এটি হস্তান্তর না হওয়া দুঃখজনক। ইতোমধ্যে এখানকার অর্ধেক মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন। প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছেন। এই ভবনের আশপাশ বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন। এখন আমরা সব মারা যাওয়ার পর এ ভবন পেলে কি লাভ হবে(?) এর জমি সংক্রান্ত জটিলতায় আমরা অনেকে মামলাও খেয়েছি। কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা হস্তান্তর পরবর্তী সময়ে ঠিকাদারের জামানতের টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। তাই আর বিলম্ব না করে দ্রুত হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

ঠিকাদার জাহিদুর রশিদ সোহেল বলেন, আজ প্রায় দুবছর ধরে এটি হস্তান্তরের জন্য কত কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি । কিন্তু হস্তান্তর করতে পারছিনা।
এদিকে, মোরেলগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দেয়ায় সম্প্রতি সেগুলো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইতোমধ্যে ভবনের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হওয়ায় আমরা ঠিকাদারকে সেগুলো ঠিক করার জন্য তাগিদ দিয়েছি। শুনেছি ঠিকাদার সেগুলো ঠিক করেছেন। এখন আমাদের কমিটি এটি পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোর ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করলে দ্রুত হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

কালের ছবি/রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *