আকাশে হার্ট অ্যাটাক করা সেই পাইলট মারা গেছেন

জাতীয় দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে

কালের ছবি ডেস্ক: দেড়-শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাঝ আকাশে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হওয়ার পরও ফ্লাইটটিকে দক্ষতার সঙ্গে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করা বাংলাদেশ বিমানের সেই সাহসী পাইলট নওশাদ আতাউল কাইউম মারা গেছেন।

আজ রোববার (২৯ আগস্ট) ভারতের নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) মারা যান তিনি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত শুক্রবার হঠাৎ বিমানে তিনি অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় মধ্য আকাশে থেকে হঠাৎ বিমানটি নাগপুরে অবতরণ করেন। পরে তিনি কোমায় ছিলেন বলে জানান হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রোশান ফুলবান্ধে। তখন তাকে সম্পূর্ণ ভেন্টিলেশনের সহায়তায় বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। তার মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে বিজি-০২২ ফ্লাইটটি নিয়ে ঢাকা আসার পথে ভারতের আকাশে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন নওশাদ অসুস্থ বোধ করেন। পরবর্তীতে বিমানটিকে ভারতের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

এবিষয়ে গতকাল শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহেরা খন্দকার বলেছিলেন, মাঝ আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাথে সাথেই পাইলট কাইউম কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান। একই সময়ে তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।

তিনি আরও জানান, কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে নিকটস্থ নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিলে কো-পাইলটই বিমানটিকে সেখানে অবতরণ করান। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিমানটির ১২৪ জন যাত্রীর প্রত্যেকেই নিরাপদে ছিলেন। জরুরি অবতরণের পর পাইলট কাইউমকে নাগপুরের হোপ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পাইলট এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি একজন দক্ষ পাইলট। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়া সত্তেও তিনি দক্ষ হাতে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তার প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমান সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার রাতেই কাইয়ুমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ রবিবার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তারা আরো জানান, যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশে আনা হবে।

কালের ছবি / রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *