সিনহা হত্যায় সিফাতের সাক্ষ্য কাঠগড়ায় ওসির ফোন

আইন আদালত জাতীয় দেশজুড়ে

জাতীয় ডেস্কঃ দেশজুড়ে আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন হত্যাকান্ডের সময়ের প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী সাহিদুল ইসলাম সিফাত। সে সিনহার সহকর্মী এবং হত্যার সময়ে তার সাথে একই গাড়িতে ছিলেন। রাত ৮টা পর্যন্ত তার সাক্ষ্যগ্রহণ চলে।

এর আগে সোমবার (২৩ আগস্ট) সকালে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে বহুল আলোচিত সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে ১২ জন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দেওয়া এই সাক্ষ্যে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সিফাত সেদিনের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন। প্রথম দিনে ১২ জন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা বাদী শারমিনকে জেরা করেন।

সাহিদুল ইসলাম সিফাত আদালতকে বলেন, ‘ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাহারছড়া চেকপোস্টে সিনহার গাড়ি থামান পরিদর্শক লিয়াকত আলী। সিনহা গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার সঙ্গে সঙ্গে লিয়াকত গুলি করেন। এতে সিনহা মাটিতে পড়ে গেলেও তিনি দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন। পরে আসামি ওসি প্রদীপ এসে প্রথমে সিনহার বুকের বাম পাশে লাথি মারেন। এরপর গলায় বুট জুতা দিয়ে চেপে ধরেন। এতে মেজর (অব.) সিনহা নিস্তেজ হয়ে পড়েন।’

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ মামলায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী ও লিটন মিয়ার পক্ষে তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট সৈকত কান্তি দে এবং অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ বাদীকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জেরা করেন।

উল্লেখ্য গত বছরের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। এরপর গত ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এতে প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। মামলায় দুই নম্বর আসামি ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশ এবং তিন নম্বর আসামি টেকনাফ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত। আদালত থেকে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় র‌্যাব-১৫ কে।

তদন্তের সময় আসামি পুলিশের ৭ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ৩ জন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য সহ আরো মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ২৪ জুন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই এখন আইনের আওতায় কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, সিনহা হত্যা মামলার আসামি ওসি প্রদীপ শুনানির সময় আইনের তোয়াক্কা না করে কাঠগড়ায় মোবাইল ফোনে কথা বলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার আদালতে মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্য নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। তখনকার একটি ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস তার ভাইকে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন আদালতে। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন অভিযুক্ত ১৫ জন। তাদের মধ্যে প্রদীপ দুপুর ১২টার দিকে কাঠগড়ায় নিচু হয়ে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তার অদূরেই দাঁড়িয়েছিলেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক সদস্য। তিনি প্রদীপকে কথা বলতে বাধা দেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রদীপ মোবাইল ফোনে একের পর এক কল করে কথা বলে।

কালের ছবি/ রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *