অপহৃত মা ছেলে উদ্ধার অপহরণকারী এএসপিসহ আটক

আইন আদালত জাতীয় দেশজুড়ে

জাতীয় ডেস্ক: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় চেষ্টার অভিযোগে সিআইডির তিন সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও অপহৃত মা ও ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীর, এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক ফারুক ও তাদের সহযোগি একজন মাইক্রোবাস চালক। আর যাদের অপহরণ করা হয়েছিল তারা হলেন-দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার লুৎফর রহমানের স্ত্রী জহুরা খাতুন (৪২) ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর (২৫)।

আজ বুধবার ( ২৫ আগস্ট) দুপুরে রংপুর সিআইডির এএসপি আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজলার বাঁশেরহাট থেকে তাদেরকে আটক হয়।

এসপি আতাউর রহমান আরো বলেন, ‌‘তারা আমার অনুমতি না নিয়ে সেখানে (চিরিরবন্দর) অভিযানে গেছেন। একটু আগে তাদের আটকের বিষয়টি শুনেছি। তারা কেন সেখানে গেলেন, কাকে অপহরণ করলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় তিনি বলেন, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসান-উল ফারুক ছুটিতে ছিলেন এবং এএসপি সারোয়ার কবীর ডিউটিতে ছিলেন। তবে এএসপি সারোয়ার কবীর কাউকে না জানিয়েই দিনাজপুরে গেছেন। তারা যদি দিনাজপুরে গিয়ে অপহরণ বা কোন বেআইনি কাজ করে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এছাড়াও চারজন আসামীকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার ও উদ্ধার অভিযানে থাকা চিরিরবন্দর থানার এসআই তাজুল ইসলাম। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের পরিচয় জানাতে রাজী হননি ওসি।

জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার পলাশ নামের এক ব্যক্তি রংপুর সিআইডি কার্যালয়ে একই উপজেলার জৈনক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা প্রতারণার একটি অভিযাগ দায়ের করেন। পরে ২৩ আগস্ট রাত সাড় ৯টার দিকে সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবিরের নেতৃত্বে একটি টিম চিরিরবন্দর উপজলার লুৎফর রহমানের বাড়িত অভিযান চালায়।

লুৎফরের ভাগ্নে শামসুল আলম মানিক জানান, সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবিরের নেতৃত্বে একটি দল গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় চিরিরবন্দরে গিয়ে তার মামার বাড়িতে অভিযান চালায়। লুৎফরকে না পেয়ে তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে মো. জাহাঙ্গীরকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় তারা।

কালের ছবি/ রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *