ভারতে মুসলিম চুরি বিক্রেতা হিন্দুত্ববাদীর হাতে নির্যাতন

জাতীয় ধর্ম বিশ্বজুড়ে রাজনীতি

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে তসলিম (২৫) নামের এক মুসলিম চুড়ি বিক্রেতাকে বেধড়ক মারপিট করেছে কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী কিছু উগ্রপন্থি যুবক এবং এসময় তাকে সাম্পদায়িক গালিগালাজ করেন। মূলত মুসলিম নাম গোপন করে হিন্দু এলাকায় চুড়ি বিক্রির দায়ে প্রকাশে মানুষের সামনে ওই বিক্রেতাকে নিমর্মভাবে পেটায় তারা। এ ঘটনায় ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ইন্দো পুলিশ।
র্
ভারতের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার ( ২২ আগস্ট) মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে চুড়ি বিক্রি করছিলেন মুসলিম যুবকটি। এ সময় হঠাৎ একদল যুবক সেখানে হাজির হয়ে তাকে নির্দয়ভাবে মারপিট করেন এবং তার কাছে থাকা ১০ হাজার রুপি ছিনিয়ে নেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ঐ ভিডিও তে দেখা যায় কয়েকজন যুবক এক চুরি বিক্রেতাকে নির্মমভাবে প্রহার করছেন। এ সময় তার কাছে থাকা ১০ হাজার রুপি ছিনিয়ে নেন এবং ব্যাগে থাকা পণ্য ফেলে দেন।

ব্যাগ থেকে চুড়ি বের করে নেওয়ার সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘যা খুশি নিয়ে নেন। তাকে আর এই এলাকায় দেখতে চাই না।’ শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তি আশপাশের সবাইকে এগিয়ে এসে মুসলিম চুড়ি বিক্রেতাকে মারধরের আহ্বান জানান। পরে তিন থেকে চারজন এগিয়ে এসে তাকে নির্দয়ভাবে মারপিট করেন।

ঘটনার পর ইন্দোর পুলিশ স্টেশনে শত শত মানুষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ক্ষোভ দেখান। পরে শেষ রাতের দিকে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মুসলিম যুবককে পিটুনির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের কাছে দায়েরকৃত অভিযোগে চুড়ি বিক্রেতা তসলিম বলেন, তারা এসে প্রথমে আমার নাম জানতে চান। নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে মারধর শুরু করেন। তারা আমার কাছে থাকা ১০ হাজার রু পিও ছিনিয়ে নেন এবং চুড়ি ও অন্যান্য পণ্য ভাঙচুর করেন।

এ ব্যাপারে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র বলেন, এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া উচিত নয়। যদি একজন মানুষ তার নাম, বর্ণ এবং ধর্ম গোপন করে তাহলে তিক্ততা তৈরি হয়। আমাদের মেয়েরা চুড়ি পরে এবং বর্ষাকালে মেহেদি লাগায়। তিনি চুড়ি বিক্রেতা হিসেবে এসেছিলেন, সেখানে বিভ্রান্তি ছিল এবং তার আইডি দেখায় সত্য বেরিয়ে এসেছে।

কালের ছবি / রাজীব

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *