ফুলবাড়ীতে নগদসহ দোকানের ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি

অর্থনীতি আইন আদালত দেশজুড়ে

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শহরের ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান থেকে নগদ অর্থসহ ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে এক দুর্বৃত্ত।

সোমবার (২৩ আগস্ট) সকাল পৌণে ৮ টার দিকে ফুলবাড়ী পৌরশহরের ব্যস্ততম নীমতলা মোড় এলাকার একটি ইলেক্ট্রনিক্স দোকানে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

নগদ অর্থসহ দোকানের পূঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন দোকান মালিক আসাদুজ্জামান বাবলু। অর্থসম্পদ খোয়া যাওয়ার শোকে দোকান মালিক আসাদুজ্জামান বাবলু দোকানের সামনে বসে বুক ফাটা কান্নাকাটি করেন। তার কান্নায় স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ পথচারীরাও নিজেদের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

আসাদুজ্জামান বাবলুর ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তার বাবা আসাদুজ্জামান বাবলু গতকাল সোমবার সকাল ৭ টার দিকে একটি ব্যাগে করে নগদ এক লাখ ৮৫ হাজার টাকাসহ পাঁচটি ফ্ল্যাক্সি লোডের মোবাইল ফোনসেট, ১০ হাজার টাকার মোবাইল ফোনের সীমকার্ড, ৩০ হাজার টাকার মোবাইল কার্ড, বিকাশ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা, নগদে ৫০ হাজার টাকা, রকেটে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং তিনটি ট্যাব নিয়ে বাসা থেকে শহরের নিমতলা মোড়স্থ দোকানে আসেন। এ সময় দোকানের সার্টার খুলে দোকানের ভেতর টাকার ব্যাগ রেখে সামনে ঝাড়ঝাটা দিতে শুরু করেন। এ সময় এক দুর্বৃত্ত কৌশলে দোকানের ভেতর থেকে টাকার ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় দোকানের ভেতরে গিয়ে ব্যাগ চুরির বিষয়টি প্রত্যেক্ষ করে সেখানেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে যান। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করেন। পরে অর্থ সম্পদ খোয়া যাওয়ার শোকে দোকানের সামনে বুকফাটা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে বাড়ীর লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি প্রত্যেক্ষ করেন। তবে কীভাবে কৌশলে দুর্বৃত্ত যুবক দোকানের ভেতর থেকে টাকার ব্যাগটি নিয়ে যাচ্ছে তা দোকানের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

এ ব্যাপারে দোকানের মালিক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ইতোমধ্যেই আমি ব্যাংকের দেনায় আমার বাড়ীঘর সব শেষ হয়ে গেছে। যেটুকু দিয়ে আমার পরিবার পরিজন চলতো দস্যুটা সেটাও নিয়ে গেছে। এখন আমি পথে বসে গেলাম। আমার টাকা পয়সা উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন সবাই। না হলে আমার মরে যাওয়া ছাড়া কিছুই থাকবে না।

ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ফুলবাড়ী পৌরশহরে একের পর এক দোকানে একই কায়দায় এক প্রকার অর্থ সম্পদ ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। শুধু আসাদুজ্জামান বাবলুরই নয়, ইতোপূর্বে স্থানীয় ব্যবসায়ী সুদর্শন গুপ্ত’রও সকালে একই কায়দায় মোটা অংকের টাকা খোয়া যায়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানোর পরও দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার কিংবা খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এতে করে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশকে আল্টিমেটাম দেওয়া হবে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শুনেছি। ইতোমধ্যেই পুলিশি কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তারসহ খোয়া যাওয়া অর্থ ও মালামাল উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদেরও একটু সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে দুর্বৃত্তরা কোন সুযোগ না পায়।

কালের ছবি/ রাজীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *