নায়করাজের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় দেশজুড়ে লাইফষ্টাইল

কালের ছবি ডেস্কঃ বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটিকে চলচ্চিত্রাঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন তাকে।

নায়করাজের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, প্রযোজক পরিবেশক সমিতি ও শিল্পী সমিতির উদ্যোগে এফডিসিতে কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বনানীতে নায়করাজের কবর জিয়ারত ও পুষ্পমাল্য অর্পণের কর্মসূচিও রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে গুলশানের লক্ষ্মীকুঞ্জে দোয়া পাঠের আয়োজন থাকছে বলে জানিয়েছেন রাজ্জাকের বড় ছেলে চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কিংবদন্তি এই অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে রেডিও-টেলিভিশন ও সংবাদপত্রগুলোতেও তাকে নিয়ে নানা আয়োজন রয়েছে।

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন রাজ্জাক, তার পুরো নাম আব্দুর রাজ্জাক। কলকাতার থিয়েটারে অভিনয় করার মাধ্যমে রাজ্জাক তার অভিনয়জীবন শুরু করেন। সিনেমার নায়ক হওয়ার অদম্য স্বপ্ন ও ইচ্ছা নিয়ে রাজ্জাক ১৯৫৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের ফিল্মালয়ে সিনেমার ওপর পড়াশুনা ও ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন। এরপর কলকাতায় ফিরে এসে ‘শিলালিপি’ ও আরও একটি সিনেমায় অভিনয় করেন।

তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কবলে পড়ে রাজ্জাক তার পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে রাজ্জাক ‘উজালা’ সিনেমায় পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

’৬০-এর দশকে সালাউদ্দিন পরিচালিত হাসির সিনেমা ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’-এ একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রাজ্জাক ঢাকায় তার অভিনয়জীবনের সূচনা করেন। এরপর নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয় জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। এতে তার বিপরীতে ছিলেন কোহিনূর আক্তার সুচন্দা।

এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি রাজ্জাককে। ৬০-এর দশকের শেষ থেকে ’৭০ ও ’৮০-এর দশকে জনপ্রিয়তার চূঁড়ায় ওঠেন রাজ্জা। একে একে নায়ক হয়েছেন তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে। রাজ্জাক অভিনীত দর্শকনন্দিত সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘মধুমিলন’, ‘পিচঢালা পথ’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘কী যে করি’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘বেঈমান’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘বাদী থেকে বেগম’ ইত্যাদি।

অনবদ্য অভিনয় জীবনে সাতবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন নায়করাজ রাজ্জাক। চলচ্চিত্রের জন্য আজীবন সম্মাননাসহ আরও অনেক পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে রাজলক্ষীর সঙ্গে সুখের দাম্পত্যে রাজ্জাক ছিলেন তিন পুত্র ও দুই কন্যার জনক। তার দুই পুত্র বাপ্পারাজ ও সম্রাটও বাবার মতোই নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

শেষ জীবনে নানা অসুখে আক্রান্ত ছিলেন নায়করাজ। মৃত্যুর পর তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। বাপ্পারাজ, সম্রাট, শাকিব খান ও জায়েদ খান- এই চার নায়কের কাঁধে চড়ে শেষ নিদ্রায় যান ঢাকাই সিনেমার রাজা রাজ্জাক।

কালের ছবি/ রাজিব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *