তালেবানি জয় জঙ্গি গোষ্ঠীর মনোবল বাড়াবে

আইন আদালত দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে রাজনীতি

 

নিউজ ডেস্কঃ আফগানিস্তানে তালেবানের জয় বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর মনোবল বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ এর ফলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন জোট গঠন ও সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন৷

বার্লিনের জার্মান ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাণ্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের গবেষক ও সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ গিডো স্টাইনব্যার্গ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে ইসলামিক স্টেট বা আইএস, আল-কায়েদাসহ ছোট ছোট গোষ্ঠীর শক্তি বাড়বে বলে আমরা আশা করতে পারি৷’’

অবশ্য তিনি বলেন, তালেবান ও আল-কায়েদার সঙ্গে আইএস-এর সম্পর্ক ভালো নয়৷ তাই আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় যাওয়ার মানে যে আইএসেরও শক্তি বাড়বে, তেমনটা না-ও হতে পারে৷

তবে তালেবানের জয়ের কারণে জিহাদি, সালাফি ও ইসলামি জঙ্গিদের মনোবল বাড়বে এবং তা সবচেয়ে বড় সমস্যা বলেই মনে করছেন স্টাইনব্যার্গ৷

তালেবানের সুপ্রিম নেতা আখুন্দজাদা এই গোষ্ঠীর রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামরিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সর্বোচ্চ ব্যক্তি৷ ২০১৬ সালে তার পূর্বসূরী আখতার মনসুর মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব পান আখুন্দজাদা৷ পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুচলাক শহরের এক মসজিদে তিনি প্রায় ১৫ বছর শিক্ষকতা ও ধর্মপ্রচারের কাজ করেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স৷ তার বয়স প্রায় ৬০ বলে মনে করা হয়৷

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর কাউন্টারটেররিজমঅ্যাণ্ড ইন্টেলিজেন্স স্টাডিজের সন্ত্রাসবাদ গবেষক জসিম মোহাম্মদ বলেন, ভবিষ্যতে বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে জোট গড়ে উঠতে পারে এবং এভাবে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে৷ ‘‘ইয়েমেনে আল-কায়েদা ও আইএস নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াবে না বলে ইতিমধ্যে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করেছে৷’’

আফগানিস্তানে তালেবানও আল-কায়েদার মধ্যেও এমন ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলে জানান জসিম মোহাম্মদ৷ তিনি বলেন, ‘‘কিছু মানুষ মনে করতে পারেন যে, আল-কায়েদা গত ১০ বছরে কিংবা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর আফগানিস্তানে বেশি সক্রিয় ছিল না, কিন্তু নথিপত্র ও তদন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, তালেবান ও আল-কায়েদার মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং তালেবানকে সমর্থন করছে আল-কায়েদা৷”

তিনি মনে করছেন, ভবিষ্যতে ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এমন ‘শান্তি চুক্তি’ আরো হবে৷ ‘‘সামনে হয়ত তালেবানের সঙ্গে আইএস-এর চুক্তি হতে পারে৷ এর আওতায় আইএস হয়ত আফগানিস্তানের ভেতরে কার্যক্রম না চালিয়ে আফগানিস্তানের বাইরে সক্রিয় থাকতে পারে৷’’

স্টাইনব্যার্গ বলছেন, অতীতে আইএস, তালেবান ও আল-কায়েদার নেতারা একে অপরকে শত্রু মনে করতেন৷ তারা নিহত হওয়ার পর এখন যে নতুন নেতারা এসেছেন তারা পুরনো নেতাদের মতো না ভেবে নিজেরা মিলেমিশে থাকতে চাইতে পারেন৷

কালের ছবি/ রাজিব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *