ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ষা মৌসুমেও চাষ হচ্ছে তরমুজ

অর্থনীতি জাতীয় দেশজুড়ে

জাহিদ হাসান মিলু, জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তরমুজ চাষের উপযোগী সময় হলেও আগস্ট মাসে ঠাকুরগাঁওয়ে চাষ করা হচ্ছে তরমুজ। মালচিং পদ্ধতি অবলম্বন করে চারা রোপনের মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে তরমুজ হারভেস্ট করা যায়। তাই বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষ উপযোগি না হলেও মালচিং পদ্ধতিতে বিদেশী জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে জেলার কৃষকদের।

দূর থেকে দেখলে মনে হয় আস্ত সিমেন্ট-বালু দিয়ে তৈরি করা লম্বা সারিবদ্ধ ঢিপি। কিন্তু আসলে তা নয়। এটি হচ্ছে মালচিং পলিথিন দিয়ে তৈরি তরমুজের বীজতলা। এমন দৃশ্য দেখা যায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলতলা ভাতারমারী ফার্মে।

দেখা যায়, চাষকৃত মাটিতে সার ও বিষ দিয়ে উঁচু ও লম্বা সারি করে মালচিং পলিথিন দিয়ে ঢেকে তৈরি করা হয়েছে তরমুজের বীজতলা। নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অন্তর পলিথিন ছিদ্র করে মাটির মধ্যে বপন করা হয় তরমুজের বীজ। সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা থেকে বড় হয়ে গাছে পরিণত হচ্ছে। আর গাছ গুলোর লতাপাতা বিস্তারের জন্য বাঁশ, সুতা ও তারের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে মাচা।

মূলত এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে- যাতে করে বৃষ্টির পানি গাছের গোড়ায় জমাট না বাধে ও পানিতে তরমুজ নষ্ট না হয়। এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে জেলার পীরগঞ্জ, হরিপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিদেশী বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করছেন অনেকে। এতে যেমন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে ও তেমনি পুষ্টির চাহিদা পুরণে ভূমিকা রেখে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা কৃষকদের। অসময় ও বর্তমানে বর্ষাকাল হলেও জেলায় এবার প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে চাষ শুরু হয়েছে বিদেশী তরমুজ।

লাভের আশায় পীরগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষক মঞ্জুর আলম ও আনোয়ার হোসেন সুমন দু’জনে সম্মিলিতভাবে নিজ উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের তেঁতুলতলা ভাতারমারী ফার্মে জমি লিজ নিয়ে “সুইট বø্যাক-২, ল্যান্ড থাই ও মধুবালা” এই তিন জাতের বিদেশী তরমুজ মোট ১০ একর জমিতে চাষ শুরু করেছেন।

তরমুজ ক্ষেতে কাজ করতে আশা মাহাবুব আলাম জানান, আমরা এখানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন মানুষ কাজ করতে আসি। আমরা দিনমজুরি পাই ৪শ ৫০ টাকা করে। এতে বর্তমানে আমাদের সংসার ভালোই চলছে।

অন্যদিকে দিনাজপুর থেকে তরমুজ ক্ষেত দেখতে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম মানিক জানান, এই উদ্যোগটি আমার খুব ভালো লেগেছে। তাদের মাধ্যমে এখানে তরমুজ ক্ষেতে কাজ করে অন্তত ৩০টি পরিবার রোজগার করে সংসার চালাচ্ছেন। আমি দোয়া করি যারা উদ্যোগ নিয়ে এখানে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন তারা যেন লাভবান হতে পারেন।

ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষক ও উদ্যোগতা- মঞ্জুর আলম জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে পরিকল্পনা করে এবার নিজ উদ্যোগে ও পাশের উপজেলার কৃষকদের দেখে উৎসাহিত হয়ে এবং ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে তিন প্রজাতির তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তরমুজ চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। লাভ কত হবে জানিনা। তবে আশা করি আল্লাহ সহায় থাকলে প্রতিবিঘা জমির তরমুজ ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকা বিক্রয় করতে পারবো।

কৃষক ও উদ্যোগতা আনোয়ার হোসেন সুমন জানান, সরকারিভাবে বা কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদেরকে পরামর্শ বা সহযোগিতা করা হলে তারা আরও ভালো কিছু করতে পারবেন বলে জনান তিনি।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ মোঃ আবু হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকায় এটি নতুন ফসল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমরা কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদেরকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সম্ভব হলে পরবর্তীতে আমাদের বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি মনে করি যে, আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলার জন্য এটি উপযোগি ফসল ও লাভ জনক ফসল হিসেবে অর্জিত হবে এবং এটি দিন দিন সম্প্রসারিত হবে।

 

কালের ছবি/রাজিব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *