সরাইল অক্সিজেন ব্যাংক সবার দৃষ্টি কাড়ছে

অর্থনীতি জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি দেশজুড়ে ধর্ম বিশ্বজুড়ে লাইফষ্টাইল স্বাস্থ্য

মোঃ জাকির হোসাইন জিকু:

ফোন পেলেই করোনা সংক্রমিত রোগীর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পালস অক্সিমিটার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার একদল তরুণ। ‘সরাইল অক্সিজেন ব্যাংক’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে তাঁরা এই সেবা দিচ্ছেন। গত ১২ দিনে ৯ জন করোনা রোগীর বাড়িতে বিনা মূল্যে ১৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছেন তাঁরা।

করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে সম্প্রতি ২০ তরুণ মিলে ‘সরাইল অক্সিজেন ব্যাংক’ নামের সংগঠনটি তৈরি করেছেন। সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে এই সেবা দেওয়া শুরু করেন। এরপর তাঁদের পাশে অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে তাঁদের অক্সিজেন সিলিন্ডার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯টি।

এরই মধ্যে অক্সিজেন সেবা দিয়ে সংগঠনটি অনেকের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদরের বড্ডাপাড়া এলাকায় ‘ঢাকাস্থ সরাইল থানা সমিতি’র পক্ষ থেকে সংগঠনটিকে ১৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা সাবেক সাংসদ জিয়াউল হক মৃধা,

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান, কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ নূর মিয়া, সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আইয়ুব খান প্রমুখ। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন মিল্লাত,

‘হৃদয়ে সরাইল সংগঠন’-এর সভাপতি ফয়সাল আহমেদ , সদস্য কামাল উদ্দিন সজল, পারভেজ আলম, কাজী আবিদুল্লাহ, জহিরুল ইসলাম, শরীফ বক্স ও বেলাল হোসেন। বেলায়েত হোসেন মিল্লাত বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছি, অক্সিজেনের অভাবে অনেক জায়গায় করোনা রোগী মারা যাচ্ছেন।

এই মুহূর্তে অক্সিজেনের সংকটও চলছে। এ জন্যই আমরা কয়েক জন মিলে এ উদ্যোগ নিয়েছি। প্রথমে আমরা মূলত শুরুটা করেছিলাম নিজেদের অর্থে। এখন আমাদের পাশে অনেকেই দাঁড়িয়েছেন।’ ফয়সাল আহমেদ বলেন, যে রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন বলে চিকিৎসক পরামর্শ দেন, কেবল তাঁদেরই অক্সিজেন সেবা দিয়ে থাকেন।

একজন রোগীর যত দিন অক্সিজেন প্রয়োজন হবে, তত দিন পর্যন্ত তাঁকে এই সেবা দেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নোমান মিয়া বলেন, সরাইলে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এসব রোগীর পাশে দাঁড়ালে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ কমবে। তবে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সঠিক নিয়ম মানা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *