হতাশ ঠাকুরগাঁওয়ের পাট চাষীরা

অর্থনীতি আইন আদালত জাতীয় দেশজুড়ে ধর্ম বিশ্বজুড়ে রাজনীতি লাইফষ্টাইল শিক্ষা সাক্ষাৎকার স্বাস্থ্য

মোঃ জাহিদ হাসান মিলু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল পাট হলেও পাট চাষ করে হতাশ ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। জেলায় পাটের ফলন ভালো হলেও পানি ও জায়গার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাট চাষীরা। পাট বাংলাদেশের রপ্তানি যোগ্য প্রথম স্থান ও উৎপাদনে দ্বিতীয় হলেও এ ব্যাপারে জেলায় নেই কোনো সরকারি উদ্যোগ।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা ও জানা যায়, পানি ও জায়গার অভাবে নষ্ট হচ্ছে চাষকৃত অধিকাংশ পাট।

সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের পাট চাষী সবুজ আলী জানান, বিঘার প্রায় অধিকাংশ জমির পাট জাগ দেওয়ার জায়গার ও পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, পাট জাগ দেওয়ার জন্য সরকার যদি আমাদেরকে বরেন্দ্র’র (ডিপ টিউবওয়েল) এর ব্যবহার করার ফলে যে বিদ্যুৎ বিল আসে সেটির টাকা শুধু কৃষকদের কাছে নিয়ে পানির ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমাদের জন্য খুবই সুবিধা হতো ও পাট চাষ করে আর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না।

এছাড়াও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও গ্রামের কৃষক আবুল কামাল বলেন, আগে আমাদের বাপ দাদারা পুকুর ও পুস্কুনির পানিতে পাট জাগ দিতো। কিন্তু বর্তমানে তেমন কোন পুস্কুনি নেই ও পুকুর গুলোতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তাই পাট জাগ দেওয়ার তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। সরকার যদি এবিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতো তাহলে পাট চাষ করতে কোনো অসুবিধা হতো না ও পাট চাষে আরও অনেকে আগ্রহী হতো।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় এবার ৬ হাজার ২’শ ৯২ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল হেক্টরপ্রতি ৯ দশমিক ৪৪ টন হিসেবে, ৫৯ হাজার ৪’শ ২৫ বেল। এর বিপরীতে ৬ হাজার ৮’শ ১৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫’শ ৩০ হেক্টর জমির পাট কর্তন করা হয়েছে এবং যার ফলন হয়েছে হেক্টরপ্রতি ৯ দশমিক ৭ বেল। যা লক্ষ্যমাত্রার থেকেও বেশি।

পাটের জাত উন্নয়ন ও লাভজনক করতে সরকারের সব সময় দৃষ্টি আছে ও আমরা কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি। পাট জাগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যদি কোনো সুযোগ থাকে তাহলে এবিষয়ে আমাদের বিভাগ থেকে অবশ্যই উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হবে বা কৃষকরা যদি মনে করেন তাদের এবিষয়ে চাহিদা আছে তাহলে এটা আমার অবশ্যই দেখবো ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান, ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আবু হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *