1. aminandbd@gmail.com : Aminul Islam : Aminul Islam
  2. rajib6850@gmail.com : Md. Rajib : Md. Rajib
  3. mrkarim121292@gmail.com : Leo Rezaul Karim : Leo Rezaul Karim
  4. zahidbdg@gmail.com : Zahidul Islam : Zahidul Islam
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ

নির্বাচনের দেরি আছে- জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলুন

  • Update Time : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৮ Time View

মইনুল হোসেন :নির্বাচনের এখনো অনেক দেরি, এখনই নির্বাচন নিয়ে সঙ্ঘাতে লিপ্ত হওয়ার অর্থ হলো- জনগণের বর্তমান দুঃখ-দুর্দশা আড়ালে ঠেলে দেয়া। জনস্বার্থের রাজনীতির অবর্তমানে ব্যবসায়ী মানসিকতার ভাগবাঁটোয়ারাকে আর যাই হোক রাজনীতি হিসেবে গণ্য করা যায় না।প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, সংসদ বহাল রেখে বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না। গতবারের মতো শেষ পর্যন্ত এটি যদি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হয়; তাহলে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে কথা বলার কোনো অর্থ হয় না। নির্বাচন কমিশন আসলে একটি ঠুঁটো জগন্নাথ, যাকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা করবে সরকার। একই সাথে সরকারি দলের বিজয় থাকবে তাদের হাতের মুঠোয়। স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সদিচ্ছা যদি নির্বাচন কমিশনের থাকত তাহলে তার জন্য ভারতের দৃষ্টান্ত দেখানো সহজ ছিল, যেখানে সাধারণ নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া হয়। এখানেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয় মনে করতে হবে। যখন অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সুযোগ নেই; তখন মেশিনে ভোট গ্রহণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিময় ও বিতর্ক করা অর্থহীন। রাজনীতিতে এটিই শেষ কথা যে, সরকার যদি শান্তিপূর্ণ পথে ক্ষমতার পালাবদলের ব্যবস্থা না রাখে, তাহলে তাকে বিকল্প পন্থায় মোকাবেলা করতে হবে। সেই আলামত একটু একটু করে দৃশ্যমান হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।পুলিশি মামলাসহ সর্বতোভাবে রাজনীতি করা যে কঠিন ও অনিরাপদ করে তোলা হয়েছে; এটি সরকারকে বোঝানো যাচ্ছে না। রাজনীতিও রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার লোকদের কাছে থাকছে না। রাজনীতি এখন ভাড়াটে লাঠিয়াল ও বন্দুকধারীদের বিষয় হয়ে গেছে। রাজনীতির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ছে না। চারিত্রিক গুণাবলি তো দূরের কথা। কোনো সভ্য ও শিক্ষিত জাতির জন্য এর চেয়ে বেশি লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। সরকারের আর্থিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জনজীবনে যে দুঃখ-কষ্ট ও বেকারত্ব দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে বিরোধীপক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তখন জনগণও আর বিচ্ছিন্ন থাকবে না। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের ওপর জনগণের যে আস্থা নেই, তা কারো অজানা নয়। তাই জনগণের বাঁচা-মরার প্রশ্নে তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। বর্তমান সময়ে সাধারণ নাগরিক অনেকের জীবন-ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে, নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা তাদের। সরকারি দলের চাঁদাবাজদেরও খুশি করতে হচ্ছে অসহায় জনগণকে। দল বেঁধে ধর্ষণসহ একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে সরকারি দলের পাণ্ডারা। অনেক বিশ^বিদ্যালয়ে টর্চার শেল গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ যদি নির্যাতনকারীদের সহযোগী না-ও হয়, তবু নির্যাতনের শিকার যারা হচ্ছেন তাদের সাহায্য করার আগে দু’বার ভাবতে হচ্ছে। বস্তুত, পুলিশকে নির্লজ্জভাবে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন দল। আর এটি করতে গিয়ে রাজনীতি হচ্ছে বিতর্কিত ও পুলিশের পেশাগত সুনাম বহির্বিশ্বে ম্লান হচ্ছে।

পুলিশের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে যারা অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে দুর্বিষহ করে তুলছে জনজীবন, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, পুলিশের সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে তাদের নিবৃত্ত করা যাবে না। সরকারের ছত্রছায়ায় বেকার তরুণদের এখন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো ও অর্থ উপার্জনে ব্যবহার করা সহজ। বাস্তবে এভাবে অপরাধের বিস্তার ঘটছে এবং অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। রাজনৈতিক দলের নেতাদের অবশ্য এ কথা বুঝতে হবে যে, জনগণ এখন আর তাদের বন্ধু ভাবে না। তাই দলকে ব্যবসায়ীদের আখড়া না বানিয়ে জনগণের পার্টি করতে হবে। প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে ভোটডাকাতি করতে দিয়ে বিরোধী নেতারা কিভাবে অর্থ কামিয়েছেন সে খবর জনগণ জানে। এর সাথে সঙ্গতি রেখে বিরোধীরা সরকারের দেয়া উপঢৌকন হিসেবে পাওয়া আসনে নির্লজ্জের মতো অনির্বাচিত সংসদে যোগদান করেছেন।অবাধ নির্বাচনে সরকারের ভরাডুবি হবে, বিষয়টি সরকারও জানে। আন্তর্জাতিক সমর্থনে যদি স্বচ্ছ নির্বাচনের ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছানো যায়, তাহলে সরকার ক্ষমতা ছাড়তে আগ্রহী হবে। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যাবে; শুধু অবাধ নির্বাচন কি অর্থ কামানোর রাজনৈতিক ব্যবসায় গুণগত পরিবর্তন আনতে পারবে! জনগণ এ মুহূর্তে নানাবিধ জরুরি সমস্যার প্রতিকার চাইছে। নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামে অনেকের ক্রয়ক্ষমতা নাগালের বাইরে চলে গেছে। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার মূল্য সরকার বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ওপর অপরাধ বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। নাজুক অর্থনীতির কারণে অনেকের ব্যবসায় বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন আয়ের সুযোগ নেই বললেই চলে। ভাগ্যাহত মানুষের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে কঠিন থেকে কঠিনতর, সাথে সাথে অমানবিক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
কপিরাইট © 2022 দৈনিক কালের ছবি
Design & Development By Md. Rajib