1. aminandbd@gmail.com : Aminul Islam : Aminul Islam
  2. rajib6850@gmail.com : Md. Rajib : Md. Rajib
  3. mrkarim121292@gmail.com : Leo Rezaul Karim : Leo Rezaul Karim
  4. zahidbdg@gmail.com : Zahidul Islam : Zahidul Islam
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

ই-টিকিটিংয়ে ভাড়া কমছে, ফিরছে যাত্রীদের স্বস্তি

  • Update Time : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৮ Time View

মাহবুবা হোসেন রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন। বাসা মিরপুর ১ নম্বরে। প্রতিদিন বাসে করে যাতায়াত করতে হয় তাঁকে। বললেন, সকালে দিশারি পরিবহনের বাসে ধানমন্ডি আসেন। ভাড়া দিতে হয় ২০–২৫ টাকা। রাতে ফেরার সময় আসাদগেট থেকে প্রজাপতি পরিবহনের বাসে যেতে ২০ টাকাই দিতে হতো। তবে দুই দিন ধরে প্রজাপতি বাসে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ফলে রাতে ফেরার সময় এক দিন ১৩ টাকা, আরেক দিন ১৫ টাকা ভাড়া দিয়েছেন।

মাহবুবা হোসেন বলেন, দুই টাকা ভাংতি নেই বলে ১৩ টাকার জায়গায় ১৫ টাকা ভাড়া নিয়েছে। এ ধরনের কাজ না করলে ভাড়া তো প্রায় অর্ধেক কমে যাচ্ছে। এটা খুবই ভালো হবে যাত্রীদের জন্য। শুধু স্টপেজে গিয়ে যাত্রী কোথায় যাবেন, তা বলার সঙ্গে সঙ্গে টিকিট বের করে তা হাতে তুলে দিচ্ছেন বিশেষ পোশাক গায়ে দেওয়া কর্মীরা। সব বাসে এটা চালু হলে ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।

তানজিলা মোস্তাফিজ শ্যামলীতে একটি বেসরকারি সংগঠনে (এনজিও) কর্মরত। বছিলা থেকে তিনি প্রজাপতি বাসে করেই যাতায়াত করেন। ই-টিকিটিং চালুর বিষয়টিকে তিনি বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। আগে অফিস শুরু ও ছুটির পর বাসে উঠতে হুড়োহুড়ি করতে হতো। এখন ই–টিকিট চালুর ফলে এই হুড়োহুড়ি হচ্ছে না। তিনি বলেন, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার যে প্রতিযোগিতা ছিল, তা–ও আর হচ্ছে না। যাত্রীরা টিকিট কেটে দাঁড়াচ্ছেন; যে বাস আগে আসছে, সেই বাস যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে বাসের ভেতর একটু বসে আরামে গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি রাজধানীতে অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায় নিয়ে বিভিন্ন সময় যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিরসনে ই-টিকিটিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারনির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় ঠেকাতে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষামূলকভাবে চারটি পরিবহন কোম্পানিতে ই-টিকিটিং চালু হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর এটি চালু হয়। এতে সরকার নির্ধারিত হারে একজন যাত্রী যত কিলোমিটার যাবেন, তিনি ঠিক তত দূরত্বের জন্যই ভাড়া দেবেন।মাহবুবা বা তানজিলা নতুন এ পদ্ধতিকে স্বাগত জানালেও অনেক যাত্রী এখন পর্যন্ত এ পদ্ধতিকে সেভাবে স্বাগত জানাতে পারছেন না। আগে সড়কের যেকোনো জায়গা থেকে হাত তুললেই বাস থেমে যেত। বাসে চড়তে টিকিটের জন্য সময় নষ্ট করতে হতো না। এখন তো আর স্টপেজের বাইরে থেকে বাসে চড়াই যাচ্ছে না। তবে এই মনোভাব পোষণ করা বেশ কয়েকজন যাত্রীর স্বীকারোক্তি, বাসে চড়ার পর অবশ্য ভাড়া নিয়ে বাসের সহকারীর সঙ্গে প্রায় সময় তর্ক করতে হতো। টিকিট থাকলে যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।রাজধানীর চারটি বাসে ই-টিকিটিং চালু হয়েছে। এতে এসব বাসের যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বাসমালিকেরা বলছেন, এতে নৈরাজ্য কমবে।আজ রোববার দুপুরে এই প্রতিবেদক মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পরিস্থান পরিবহনের একটি টিকিট কাটেন। টিকিট হাতে না নিয়ে ব্যাগে রেখে বাসে চড়ার সময় তাঁকে বেশ কড়া কথা শুনিয়ে দিলেন বাসচালকের সহকারী। বললেন, ‘টিকিট কাটছেন, টিকিট হাতে রাখেন নাই ক্যান?’ বাস থেকে যাত্রীরা নামার সময় এই সহকারী তাঁদের হাত থেকে টিকিট নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে দিচ্ছিলেন, যাতে একই টিকিটে অন্য সময় যাতায়াত করতে না পারেন।বাসে চড়ার আগে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রজাপতি ও পরিস্থানের ই-টিকিটিং ব্যবস্থাপনার কাজ করছেন এমন কর্মীদের সঙ্গে কথা হয়। পরিস্থানের কর্মী মো. কবির হোসেন হাতের ডিভাইস থেকে যাত্রীদের টিকিট দিতে দিতে বললেন, ‘ঝামেলা বাড়ছে; আবার অনেক বেকারের কর্মসংস্থানও হইছে। এখন তো লোক বাড়াইতে হইতাছে প্রতি স্টপেজে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
কপিরাইট © 2022 দৈনিক কালের ছবি
Design & Development By Md. Rajib